
মোঃ নুরুল ইসলাম, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর জেলার সদরপুরে এলপিজি ও সিএনজি সংকটে বাসাবাড়িতে চলছে দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি, বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। প্রায় তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দোকানগুলোতে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। যাও কিছু পাওয়া যায় তা অতিরিক্ত দামে বিক্রয় হয়, বোতল প্রতি ১৭ শত টাকা থেকে ১৮ শত টাকা। অন্যদিকে, পাম্পে সিএনজি গ্যাস সংকটের অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চালকরা। তারা ৮০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ১০০ টাকা। উভয়মুখী চাপে সদরপুরের মানুষ দিশেহারা। চলতি মাসের শুরুতে সরকার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেবার পর হঠাত করে এলপিজি এবং সিএনজি সংকট শুরু হয়।
শ্যামপুর নিবাসী গৃহবধু পাপিয়া জানিয়েছে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা শুনে গ্যাসের চুলায় রান্না কমিয়ে দিয়েছি। খড়ির চুলায় রান্নায় ভোগান্তি বেড়েছে। ইলেক্ট্রিসিটি চুলায় রান্না করি। এতে বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসছে।
সোনিয়া নামের বালিয়াহাটি নিবাসী জানিয়েছেন, আমরা নিয়মিত ফরিদপুরে যাই। আগে ফরিদপুরে যেতে সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা ছিল। গ্যাস সংকটের অযুহাতে ওরা ভাড়া বাড়িয়ে ১০০টাকা করেছে। ভাড়া বৃদ্ধিতে আমরা কষ্টের মধ্যে আছি।
সদরপুর বাজারের এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী আশিক জানান, প্রায় তিনসপ্তাহ ধরে গ্যাস সিলিন্ডার সংকট চলছে। যা পাই চাহিদার তুলনায় কম। ডিলাররা যমুনা ও বিএম সিলিন্ডার প্রতি ১৫ শত টাকা ধার্য করে। বসুন্ধরা ১৬৫০ টাকা। আমরা যমুনা ও বিএম ১৫৫০ টাকা, বসুন্ধরা ১৭০০ টাকা বিক্রয় করি। শুনেছি কেউ কেউ ১৮ শত টাকাও নেয়। যতদিন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে, ততদিন গ্যাসের দাম কমবে না বলে মনে হয়।
এদিকে, সদরপুর সিএনজি চালক ইব্রাহিম জানান, একমাস ধরে একমাত্র সদরপুর ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। আমরা ১৫ কিলোমিটার দূর কানাইপুর স্টেশন থেকে গ্যাস এনে চালাই। গ্যাসের দাম লিটার প্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। কোন দিন গ্যাস পাই, কোন দিন পাই না। সিএনজির অভাবে গাড়ি দু’একদিন বন্ধ রাখতে হয়।
এ প্রসঙ্গে সদরপুর ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রায় একমাস পর গ্যাসের গাড়ি এসেছে তাও পরিমাণে কম দিয়েছে। এই গ্যাসে দু’একদিন চলবে। পরবর্তীতে সিএনজি কবে আসবে জানিনা। শুনেছি গ্যাস সরবরাহ লাইনে সমস্যা। ফরিদপুরের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। সংকট থাকলেও গ্যাসের দাম বাড়েনি। আমরা নির্ধারিত দামেই গ্যাস দিচ্ছি। চলতি মাসের শুরুতে সরকার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেবার পর হঠাত করে এলপিজি এবং সিএনজি সংকট শুরু হয়।