
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,কোন কিছুর তাইরে নাইরে বজ্জাত করা হবে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমে যে নির্বাচিত হবে আমরা দেহ মন প্রাণ সবকিছু উজার করে তাদেরকে অভিনন্দন জানাবো। এর বাইরে গিয়ে আমরা কিছু মেনে নিবোনা। বহু এলাকার অনেক সমস্যা রয়েছে আমরা কথা দিচ্ছি মহান আল্লাহ রব্বাল্লাহ্ আমীন জাতীর আমানতের বোঝা যদি আমাদের ঘাড়ে রাখে তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে বেইনসাফি করবোনা। বার তারিখে প্রথম ভোট হবে গণভোট। কি হবে সেইটা। হ্যাঁ মানে আযাদি না মানে গোলামী। ইনশাআল্লাহ প্রথম ভোট হ্যাঁ। ইনশাআল্লাহ সারাদেশবাসী হ্যাঁকে বিজয়ী করবে। তাহলে বাংলাদেশ রাস্তা খুজে পাবে। ওই নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে হ্যাঁ ভোটের মধ্যে দিয়ে।সেই নতুন বাংলাদেশ চালানোর জন্য ইনসাফ ভিত্তিক একটা রাষ্ট্র কাঠামো আমাদের লাগবে।
শুক্রবার(৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসদরের স্টেডিয়াম মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরিদপুর-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লাকে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, আমি আজকে বার্তা দিতে এসেছি আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা,আমি আঠারো কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি কোন দলের সরকার চাইনা,কোন পরিবার তান্ত্রিক সরকার চাইনা। কোন গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকারও চাইনা,আমি চাই জনগণের সরকার। পাঁচ আগষ্টের পরে আপনারা দেখেছেন আমরা যেমন মসজিদ পাহারা দিয়েছি,তেমনি মন্দির পাহারা দিয়েছি,তেমনি মঠ পাহারা দিয়েছি,চার্চও আমরা পাহারা দিয়েছি। কারন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্ব স্ব ধর্মের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র। এ নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবেননা,পছন্দ করিনা।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, আগামীর বাংলাদেশ আমরা সবাই মিলে গড়বো। কোন বিভক্তি কাউকে করতে দিবোনা। স্ব-স্ব ধর্মের লোকেরা তাদের মনের মাধুরি মিশিয়ে তারা তাদের ধর্মের কাজ করবে। সেখানে অন্য কেউ বাঁধা দেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারবেনা। আর আমাদের মাইনরিটি যে ভাই-বোন বলা হয় তাদের সম্পদের দিকে কেউ লাল চোখ দিয়ে তাকাতে পারবেনা। রাষ্ট্র তার চোখ তুলে ফেলবে। আমরা সাম্যর বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন,আমরা ওই বাংলাদেশটা গড়তে চাই নির্বাচিত হওয়ার পরে আর শশুরবাড়ির সম্পদ বাড়বেনা। আমাদের দেশে একটা অদ্ভুত কালচার, নেতা হওয়ার আগে তেমন কোন সম্পদ থাকেনা,যেই নেতা হলো,নির্বাচিত হলো,লাফিয়ে লাফিয়ে অফুরন্ত শশুরবাড়ির সম্পদ বাড়ে, বাপের বাড়িরটা আবার তেমন বাড়েনা,কারন বাপের বাড়ির কেউ যদি জেনে ফেলে,ভাগ বসায় দেয়। কিন্তু মন্দ কপাল অন্যটা হয়ে যায়,কপাল ঘুরে যায়, উল্টা দিকে ঘুরে যায়,তখন শশুর বাড়িওয়ালারা বলে বাবাজি অথবা ভাইজি বিপদের সময় পাহারা দিয়েছি এই সম্পদ তোমার নয়,এখন আমার। এখন ঘটেছে অনেকে আত্মহত্যা করেছে দেশ ছেড়ে হতাশ হয়ে বিদেশের মাটিতে পা বাড়িয়েছে। আমরা ওই রাজনীতির পচা ধারা পাল্টে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে জনতা জেগে উঠেছে। আমরা সন্ত্রাস-ফ্যাসিবাদের সাথে নাই, আমরা চাঁদাবাজদের সাথে নাই,,আমরা দুর্নীতির সাথে নাই,আমরা মায়ের ইজ্জত হরণকারীদের সাথে নাই। এবার মা-বোনেরা জেগে উঠেছে তাদের ইজ্জতকে সংরক্ষণ করার যুদ্ধে লড়াইয়ে তারা অবতীর্ণ হয়েছে।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু হারিচ মোল্লা’র সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন বোয়ালমারী পৌরসভার জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী। জনসভায় জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।