
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল | ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই এলাকায় অবস্থিত ‘জলসিঁড়ি ফার্মস’ এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। খামারের প্রবেশপথে লেখা সেই চিরচেনা ও আবেগপূর্ণ উক্তি — “অবুঝ সূর্যমুখী সূর্য দেখেই চিরকাল সূখী”—আগন্তুকদের মনে এক অপার্থিব প্রশান্তি বিলিয়ে দিচ্ছে। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও এখন বড় হয়ে উঠেছে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রশ্ন।
প্রকৃতির মাঝে বিষাক্ত ধোঁয়ার ঠাঁই নেই
সম্প্রতি জনপরিসরে ধূমপানের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে উঠেছে। ঘাটাইলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সচেতন মানুষের দাবি—রাস্তাঘাট, হাট-বাজার কিংবা ঘরবাড়ি, কোথাও যেন পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হতে না হয়।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে:
বিরক্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: জনসমাগমস্থলে ধূমপানের কারণে অধূমপায়ী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম বিরক্ত এবং শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
পরিবেশ দূষণ: যেখানে সূর্যমুখীর মতো পবিত্র ফুল প্রকৃতির শোভা বাড়াচ্ছে, সেখানে যত্রতত্র সিগারেটের ধোঁয়া ও অবশিষ্টাংশ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সামাজিক প্রতিরোধ: সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, “পৃথিবীর কোথাও এখন আর যত্রতত্র ধূমপানের জায়গা থাকা উচিত নয়। এটি ব্যক্তি নয়, বরং সমষ্টির ক্ষতি করছে।”
জলসিঁড়ি ফার্মস: এক টুকরো স্বস্তি
মাকড়াইয়ের এই ফার্মটি শুধু কৃষি প্রকল্প নয়, বরং যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, সূর্যমুখীর এই রাজ্যে এসে যদি বিষাক্ত ধোঁয়ার গন্ধ পেতে হয়, তবে প্রকৃতির অবমাননা করা হয়। তাই প্রতিটি পাবলিক প্লেসকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত করার দাবি এখন সময়ের দাবি।
প্রকৃতির নিয়মেই যেমন সূর্যমুখী সূর্যের দিকে তাকিয়ে সুখ খুঁজে নেয়, তেমনি মানুষও বিষমুক্ত নির্মল বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বাঁচতে চায়। ঘাটাইলবাসীর প্রত্যাশা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিটি রাস্তা, বাজার এবং পর্যটন কেন্দ্র হবে ধূমপানমুক্ত ও নিরাপদ।