
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় পর্দার আড়ালে থাকার পর আবারও আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী। তবে এবারের আলোচনা তাদের সরকার গঠন নিয়ে যতটা না, তার চেয়ে বেশি তাদের ‘কৌশলগত অবস্থান’ নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত বর্তমানে এককভাবে সরকার গঠনের চেয়ে একটি ‘শক্তিশালী ও আদর্শিক বিরোধী দল’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ক্ষমতার চেয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এ ঝোঁক
দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত। এই দ্বিমেরু রাজনীতিতে জামায়াত বরাবরই একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু কর্মকাণ্ড এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা নিজেদের একটি ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য হলো সংসদে এমন একটি অবস্থান তৈরি করা, যাতে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তে তারা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন এই কৌশল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কৌশলবিদরা জামায়াতের এই অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
আদর্শিক ভিত্তি মজবুত করা: সরকারে থাকলে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার কারণে অনেক সময় দলীয় আদর্শ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিরোধী দলে থাকলে রাজপথে সক্রিয় থেকে নিজেদের আদর্শিক প্রচার চালানো সহজ হয়।
ব্র্যান্ডিং ও ইমেজ পুনর্গঠন: গত এক দশকের প্রতিকূলতা কাটিয়ে জামায়াত এখন নিজেদের একটি ‘শৃঙ্খলিত ও স্বচ্ছ’ দল হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায়। একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রেখে তারা জনমনে এই আস্থার জায়গাটি আরও সুসংহত করতে চায়।
কিংমেকার হিসেবে টিকে থাকা: এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে সংসদে বড় একটি অংশ দখল করে রাখা অনেক সময় বেশি ফলপ্রসূ। এতে যেকোনো জোট সরকার গঠনে জামায়াত একটি অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হয়।
মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি
সারাদেশে জামায়াত বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকে হাঁটছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, তড়িঘড়ি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে একটি শক্তিশালী সংসদীয় বিরোধী অবস্থান তৈরি করা ভবিষ্যতের জন্য বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
জামায়াত নির্বাচনে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হলে , তবে তা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি কেবল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিই করবে না, বরং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।
দৃষ্টিভঙ্গি: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের এই ‘বিরোধী দল হওয়ার কৌশল’ মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতির অংশ। সরাসরি ক্ষমতায় গিয়ে বিতর্কিত হওয়ার চেয়ে বিরোধী আসনে বসে জনগণের দাবি নিয়ে সোচ্চার থাকাকেই তারা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে দেখছে।