
মোঃ ইউনুছ মিয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বাকি সাত প্রার্থী ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রমে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী অংশ নিলেও ভোটারদের রায়ে স্পষ্ট হয়—মাঠে কার্যত দ্বিমুখী প্রতিযোগিতাই মুখ্য ছিল। অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটের হিসাবে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আহমদ আবদুল কাইয়ুম (হাতপাখা), প্রাপ্ত ভোট ৩,৫৯৩;
আমজনতার দল-এর চৌধুরী রকিবুল হক (প্রজাপতি), ২৪৪ ভোট;
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর মনিরুজ্জামান (ট্রাক), ৬৩৩ ভোট;
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি-এর মো. এমদাদুল হক (হাতি), ১১১ ভোট;
বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. খোরশেদ আলম (ডাব), ৭১৭ ভোট;
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর মো. শরীফ উদ্দিন সরকার (আপেল), ১৬৭ ভোট;
এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর রিয়াজ মো. শরীফ (সিংহ), ১৫২ ভোট।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল ইঙ্গিত দেয়—মুরাদনগরে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ছিল সুসংহত ও কেন্দ্রীভূত। সাংগঠনিক দুর্বলতা, সীমিত প্রচার এবং মাঠপর্যায়ে প্রভাবের ঘাটতির কারণে ছোট দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভোটের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।