
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ভয়াবহ অনিয়ম, জোরপূর্বক জাল ভোট, হামলা, হুমকি এবং ফলাফল কারচুপির অভিযোগে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এমন পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের জন্য “অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
ভোটের আগেই সহিংসতার অভিযোগ তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াত নেতা মাহবুব আলম-কে ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
সাদিপুরে জামায়াত কার্যালয় ভাঙচুর করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ব্যানার নষ্ট করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভোটারদের প্রাণনাশের হুমকিঃ কাঁচপুর ইউনিয়নে এক সাধারণ ভোটারকে টেলিফোনে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।
ভোটের আগের রাতে প্রায় ১২০০ ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং বহু বাড়িতে ভোট দিতে না যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা ও বহিষ্কারঃ
অভিযোগ অনুযায়ী অন্তত ৫০টি কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ৯টি কেন্দ্রে জোর করে সিল মারা হয়েছে। মোগড়াপাড়ায় এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। সনমান্দীতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে।
পিরোজপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে অভিযোগ।
প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগঃ বিএনপি নেতা মোহন-এর নেতৃত্বে এবং বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর উপস্থিতিতে জামায়াত নেতা কাজী নাসির উদ্দিন, তাজিবুর রহমানসহ ১০–১২ জনকে গুরুতর মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোনারগাঁও পৌরসভায় ব্যবসায়ী মামুন সাহেব ও বিএনপি নেতা জসিম এবং সেন্টু-এর বিরুদ্ধে ভোটারদের সামনে জোর করে সিল মারানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
নারী ভোটারদের হয়রানিঃ অসংখ্য কেন্দ্রে নারী ভোটারদের নেকাব খুলে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে যা স্থানীয়দের ভাষায় “চরম ন্যাক্কারজনক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগঃ যে সব কেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা ছিল তার তালিকা আগেই প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল—কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
জোরপূর্বক ভোট, এজেন্ট বহিষ্কার, ফলাফল শিটে ওভাররাইটিংসহ নানা অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন বাতিলের আবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
কঠোর প্রতিক্রিয়াঃ স্থানীয় নেতাদের ভাষায় এই নির্বাচন ভোটাধিকার হরণের কালো অধ্যায় এবং গণতন্ত্রের প্রতি নির্মম আঘাত হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে