
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ, বুড়িচং উপজেলা।
দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে এখনও প্রতিদিন অনুপস্থিত থাকেন গড়ে ৬০ শতাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের, পোহাতে হয় দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে ফুটে উঠেছে এমন চিত্র।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ৫০ শয্যার বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীর লাইন। কিন্তু আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) সোমবার বেলা ১০টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই!ছুটির দিন ছাড়া সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বহির্বিভাগে সেবা প্রদান শুরু হয় সকাল ৮টায়, চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। আর ছুটির দিনগুলোতে চালু থাকে শুধু জরুরি বিভাগ, থাকেন স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক।হাসপাতালে প্রবেশ করেই হাজিরা খাতা এবং ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা যাচাই করে দেখা যায় ২৬ চিকিৎসকের মধ্যে উপস্থিত আছেন ৩ জন হাসপাতালে শুধু ডা. জাহিদ, ডা. এম জামান, ডা. ফরহাদ আবেদীনকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।মোটকথা, অনুপস্থিত রয়েছেন ২৩ জন। পূর্ণমতি এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আগে একদিন এসে ফিরে গেছি, ডাক্তার পাইনি, আজও পেলাম না। এখন ক্লিনিকে যাচ্ছি।’ ওই নারী জানান, তিনি এসেছিলেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের কাছে।
বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মালেকুল আফতাব ভূঁইয়া মুঠোফোনে জানান, হাসপাতালের রোস্টার অনুযায়ী হাসপাতালে কর্তব্যরত ২৬ জন ডাক্তারের মধ্যে ৪ জন ছুটিতে আছেন।‘কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিসে ওনার মাসিক সমন্বয় সভা আছে, যার কারণে তিনি আসতে পারেননি । দু-একজন বাদে সব ডাক্তারই আসার কথা । ওনারা কেন আসে নাই, বিষয়টি আমি দেখছি ।’এ সময় বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী সজল চন্দ্র দাস জানান, এখন পর্যন্ত তিনজন ডাক্তার এসেছেন । বাকিরা চলে আসবেন ।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুল ইসলাম নামে একজন জানান, টিকেট কেটে অপেক্ষা করছি ডাক্তার এখনো আসে নি।কখন আসবে কেউ বলতে পারছে না।
ডাক্তারদের কখন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির বলেন, সব সরকারি হাসপাতালে ডাক্তাদের ৮টায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে । বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন ২৬ জনের মধ্যে তিনজন উপস্থিত আছেন— বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি ।