
ক্রাইম রিপোর্টার : রাজিব খাঁন
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি আয়োজনে দেওয়া খাবার খেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাগমারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপজেলা প্রাঙ্গণে এই খাবারের আয়োজন করা হয়। সেই খাবারে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পর থেকেই কয়েকজনের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। কারও কারও পেটে মুচড় দিতে থাকে। পরে বিকাল থেকে রাতের মধ্যে অনেকেই পাতলা পায়খানাসহ পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই খাবারের মেনুতে ছিল সাদা বিরিয়ানি, এক টুকরা মাংস, একটি ডিম ও বুটের ডাল। অনেকের ধারণা, খাবার নষ্ট বা বাসি হয়ে যাওয়ার কারণেই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বুটের ডাল টক হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাবার খেয়ে অসুস্থদের একজন বাগমারা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার। তিনি জানান, দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। পরে দাওয়াত পেয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে খাবার খান। তিনি বলেন, খাবারের মেনুতে ছিল সাদা বিরিয়ানি, এক টুকরা মাংস, একটি ডিম ও বুটের ডাল। আমার মনে হয়েছে খাবার কিছুটা বাসি ছিল। বিশেষ করে বুটের ডাল টক হয়ে গিয়েছিল।
অসুস্থ সাংবাদিক ইউসুফ আলী সরকার বলেন,
আমি প্রচণ্ড অসুস্থ বোধ করছি। উপজেলা প্রশাসনের খাবার খাওয়ার পর থেকেই এমন হয়েছে। অনবরত পাতলা পায়খানা হচ্ছে। ওষুধ খেয়েও খুব একটা উপকার পাচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, খাবার দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও তরকারিতে সমস্যা থাকতে পারে।
আরেক সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ বলেন,
খাবারের কারণে হয়েছে কিনা নিশ্চিত বলতে পারছি না। দীর্ঘদিন রোজা রাখার পর হঠাৎ দুপুরে ভারী খাবার খাওয়ার কারণেও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে পেটের সমস্যা হলো তা বলতে পারছি না।
এ ঘটনায় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আয়োজিত খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল উপজেলা প্রশাসনের। অথচ আয়োজন সেই খাবার খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এমন অবহেলা ও তদারকির ঘাটতি না থাকলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হতো না। প্রশ্ন উঠেছে খাবার পরিবেশনের আগে সেটির মান যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং কেন নষ্ট বা নিম্নমানের খাবার অতিথিদের সামনে পরিবেশন করা হলো?
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এমন নীরবতা জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীনতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন বিষয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননার অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকেই বাগমারাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আয়োজিত খাবারের মান কেমন ছিল এবং সেটি পরিবেশনের আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না?
উল্লেখ্য, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে অর্থাৎ ৫ আগষ্টের পূর্বে থেকে বাগমারার দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় মহলে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা শোনা গেছে। তাকে ঘিরে অনেক সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে। বছরখানেক আগে উপজেলার জন্য চাল ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়েও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি পচা চাল ক্রয় করা হয়েছে। এঘটনায় নামমাত্র চুনোপুঁটিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও দুর্নীতি বাজদের ব্যাপার নিশ্চুপ উপর মহল।