
ক্রাইম রিপোর্টার : রাজিব খাঁন রাজশাহীঃ
২৮ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহী-এ আজ শনিবার (২৮ মার্চ) জাঁকজমকপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ। বছরের পর বছর ধরে দেশের পুলিশ বাহিনীর দক্ষ ও পেশাদার নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই একাডেমিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবময়।
দীর্ঘ এক বছরব্যাপী কঠোর, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে ৭২ জন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার আজকের এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তব কর্মজীবনে পদার্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সুসজ্জিত ও চৌকস কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পদক ও সনদ বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে তাদেরকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মোঃ আলী হোসেন ফকির। এছাড়াও সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার আহমেদ সাদমান সাকিব, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো প্যারেড পরিচালনা করেন।
প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে—
বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোঃ ফাহিম ফয়সাল বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোঃ আরাফাত হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শাওন রেজা, বেস্ট শ্যুটার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন বাপী কুমার দাশ, উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে আধুনিক আইন প্রয়োগ, অপরাধ দমন কৌশল, অস্ত্রচালনা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং জনবান্ধব পুলিশিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারগণ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬ মাসব্যাপী মাঠ পর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত হবেন। এ সময় তারা সরাসরি জনগণের সাথে কাজ করার মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবে।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হলো একঝাঁক তরুণ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা—যাদের হাত ধরেই আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও মানবিক পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।