
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বগা ইয়াছিনিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ও নুরানি মাদরাসায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান চলাকালীন কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বাধা প্রদান, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া এবং শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩১শে মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রীড়া ও কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।বাদ আছর কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে
যখন শিশু শিক্ষার্থী মোছাঃ বুশরা (৭) কুরআন তেলাওয়াত শুরু করে, তখন স্থানীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি মো: শফিকুল ইসলাম তরফদার, গ্রাম: বগা ভাংগাবাড়ি অতর্কিতভাবে অনুষ্ঠানে বাধা প্রদান করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম প্রতিযোগিতায় বিঘ্ন ঘটান এবং ছোট্ট শিশু বুশরার হাত থেকে জোরপূর্বক মাইক কেড়ে নেন। উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি মাদরাসার শিক্ষকদের “বেয়াদব” বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মো: শফিকুল ইসলাম তরফদার আমাদের জানান এটি সামান্য একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এর সমাধান তিনি করেছেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মতো একটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন হীন আচরণে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মাওলানা মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (২৫): তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।হাফেজ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (৪৬): তিনি জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় আয়োজনে এমন বাধা প্রদান অত্যন্ত লজ্জাজনক।মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন (৩০): তিনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এলাকাবাসীর দাবি কুরআন তেলাওয়াত বন্ধ করা এবং শিক্ষকদের অপদস্ত করার এই ঘটনায় বগা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত মো: শফিকুল ইসলাম তরফদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।