
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সকল সংবাদ বর্জনের ডাক; কঠোর হুঁশিয়ারি
খোলাকন্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক, সদরপুর |
সদরপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজ। গত শুক্রবার রাতে অবৈধভাবে পাচারকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটককৃত ব্যারেল বোঝাই তেলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার বিচার না পেয়ে আজ অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কলম বিরতি’র ঘোষণা দিয়েছে উপজেলার পাঁচটি সক্রিয় সাংবাদিক সংগঠন।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক জরুরি প্রতিবাদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সাংবাদিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড অফিস এবং থানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংবাদ বা ইভেন্ট কাভার করবে না গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রতিবাদ সভার মূল বিষয়সমূহ:
- সংবাদ বর্জন: সাংবাদিকরা ঘোষণা করেন, এখন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানা পুলিশের কোনো প্রেস রিলিজ, সভা বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে না।
- হামলার তীব্র নিন্দা: তেলের অবৈধ মজুত বা সিন্ডিকেটের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে যে ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হতে হয়েছে, তাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর কুঠারাঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- প্রশাসনের নির্লিপ্ততা: ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।
নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি:
প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা বলেন, “আমরা কলম ধরি সত্য প্রকাশ করতে, লাঞ্ছিত হতে নয়। যদি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে এই আন্দোলন আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। প্রশাসন যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের কোনো ভালো কাজের প্রচার পাওয়ার অধিকার নেই।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে অবৈধভাবে পাচারকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটককৃত ব্যারেল বোঝাই তেলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘চ্যানেল এস’-এর সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং ‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’-এর আলমগীর হোসেন লাঞ্চনার স্বীকার হন।
এই ঘটনায় জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে আজ থেকে সদরপুরের রাজপথে এবং কলমে এই নীরব প্রতিবাদ শুরু হলো।
উপজেলার পাঁচটি প্রধান সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্যরা এই সংহতি সভায় উপস্থিত থেকে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এলাকা জুড়ে এখন এই ‘কলম বিরতি’ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।