
মনির হোসেন, মোংলা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের দস্যুদের দমনে আবারও অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনে একের পর এক জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বনের উপর নির্ভরশীল মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অপহরণের পর মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে জেলেদের।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দস্যু বাহিনী। মুক্তিপণ দাবিতে জেলে অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায়, মাছ ছিনতাই ও মারধরের ঘটনা বাড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে দুবলার চর এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুন্দরবনের দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল বুধবার সকালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা সদর দপ্তরে থেকে দস্যুবাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার লক্ষে রওনা দেয় যৌথবাহিনী। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী স্পিডবোটযোগে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দস্যুদের আস্তানা শনাক্ত করে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া উইং জানায়, সুন্দরবনের বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু করা হয়েছে। দস্যুদের পুরোপুরি নির্মুল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।
দস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে কোস্টগার্ড জাহাজ বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় টহল পরিচালনা করেছে।
জানতে চাইলে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, উপকূলের সাধারণ মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য নদী বা সমুদ্রে যেতে পারছে না। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুন্দরবনের দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে অভিযান জোরদার করা হবে।