
স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলামের প্রতিবেদন
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নে আলাল শেখ ওরফে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমানের স্ত্রীর ছত্রচ্ছায়ায় আলাল এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এমনকি বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে হাঁস-মুরগী ও মাছ চুরির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের পতনের পর আলাল কৌশলে বিএনপির কিছু অসাধু ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে ম্যানেজ করে গাজনা ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই পদক্ষেপ এলাকার ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আলালের মতো ব্যক্তিরা যদি বিএনপির মতো দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন, তাহলে গাজনা ইউনিয়নের নিবেদিত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হবেন এবং এলাকায় অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আলালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।” তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং মধুখালী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আলাল ওরফে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান একাধিক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলাল শেখ ওরফে আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা গাজনা ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসন এবং বিএনপির হাইকমান্ড এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।