
টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে এমএলএম কোম্পানি 'সাকসেস' এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাগরদীঘি এলাকায় বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে উঠে এই এমএলএম কোম্পানি সাকসেস। ৭ মাস আগে বিরাট আয়োজনে উদ্বোধন হয় কোম্পানিটির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হেলিকপ্টার যোগে উপস্থিত হন কোম্পানির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক লুৎফর রহমান। তিনি সাগরদীঘি ইউনিয়নের ফজরগঞ্জ এলাকার রইস উদ্দিনের ছেলে। চলাফেরা করেন পাজেরো গাড়ি নিয়ে। সাকসেস কোম্পানির নানা লোভনীয় অফার পেয়ে উৎসাহী হন অনেকেই। কয়েক মাস যেতেই উৎকণ্ঠা আর হতাশার সুরে কথা বলেন সাকসেস কোম্পানির একাধিক গ্রাহক। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানায়, কোম্পানি প্রতারণা করে আমাদের থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে আমাদের সাথে কোম্পানি সকল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। ৭ হাজার গ্রাহকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে তারা।
রসুলপুর এলাকার মামুন বলেন, আমি ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকার ৫টি সিপিএস শেয়ার ক্রয় করি। কোম্পানির পরিচালক লুৎফর রহমানের মৌখিক ঘোষনা অনুযায়ী আমি একটি এলিয়ন গাড়ি উপহার পাই। কিন্তু এখনো আমার নামে গাড়ির কাগজ করে দেয়নি।
প্রতারণার শিকার জাহিদুল ইসলাম জানান, আমি ৪ লাখ টাকা দিয়ে কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছি। মাসে ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছি না। কোম্পানির অফিস বন্ধ থাকে। মোবাইলও রিসিভ করে না।
সাগরদীঘি বাজারের হোমিওপ্যাথিক ডা. মো. মমিনুল ইসলাম জানান, আমি ৪ লাখ টাকা দিয়ে কোম্পানির সিপিএস সদস্য হই। আমার কাজের কমিশন হিসাবে কোম্পানি আমাকে একটি প্রাইভেটকার উপহার দেন। দেড় লাখ টাকা জামানত নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোম্পানি আমাকে গাড়িটি হস্তান্তর করেন। পরে আমার নামে কাগজ করে দিবে বলেও জানন তারা। ২ মাস পরে গাড়িটি মেকানিকাল কাজের কথা বলে ঢাকা নিয়ে যায় কোম্পানি। এখন আমার গাড়িও নেই মাসিক বেতনও বন্ধ। সদস্য হওয়ার ৪ লাখ টাকা ফেরৎ পাবো কিনা সন্দেহ।
জানা যায়, সাকসেস কোম্পানির সাধারণ আইডির সংখ্যা ৭ হাজার। প্রতি সদস্য ৪ হাজার ৫শত ৫০ টাকা হলে মোট টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সাকসেস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, আমার কোম্পানির লাভ না হলে গ্রহকদের লাভ কিভাবে দিবো। কোম্পানির মোট সদস্যের সংখ্যা জানতে চাইলে এক দেড়শ হবে বলে জানন তিনি। মুঠোফোনে কথা হয় সাকসেস কোম্পানির চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। গ্রাহকদের গাড়ি উপহার দেওয়ার বিষয়টিও সঠিক না। আমরা কাউকে গাড়ি দেওয়ার কথা বলিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু সাঈদ বলেন, প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং -এমএলএম কোম্পানি বিপুল পরিমাণে টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তাই গ্রাহকদের আরো সচেতন হওয়া উচিত ছিলো। তবে ভুক্তভোগীরা আইনী সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদের সর্বাত্বক সহযোগিতা করবো।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ, মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্ত ছাড়া তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “খোলাকন্ঠ” এর জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিভার্সিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে জরুরী ভিত্তিতে সংবাদ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত, ২কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের রঙ্গীন ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ কারা গেল। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রকাশক ও সম্পাদকঃ (খোলাকন্ঠ), ইমেইল: বার্তা ও বিজ্ঞাপন: kholakantha2025@gmail.com Web: http://kholakantha.com মোবাইলঃ +880 1714140672