
মোঃ রাশিদুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী সরোয়ার হোসেন (৪০)। শুক্রবার ভোরে চার বছরের শিশু সন্তান সারফারাজকে সঙ্গে নিয়ে বাউফল থানায় হাজির হয়ে খুনের দায় স্বীকার করেন তিনি।
তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত সালমা আক্তার (৩২) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর মেয়ে। তিনি বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।
অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরির সুবাদে সালমা ও সরোয়ার তাদের একমাত্র সন্তানসহ বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন বেপারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক কলহ চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।
গত ২৯ জুলাই (বুধবার) বিকেলে সেই কলহের জেরে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে স্ত্রী সালমার ঘাড়ে কোপ দেন সরোয়ার। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
হত্যার পর দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান সরোয়ার। পরে বিবেকের তাড়নায় ১ আগস্ট (শুক্রবার) ভোরে থানায় গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘সরোয়ার থানায় এসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করলে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। শিশুটিকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’’
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ‘‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার জানিয়েছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এমন সন্দেহ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’’