
রিয়াজ রহমান, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের, সৈয়দপুর গ্রামের কৃতিসন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ আগামী সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ -৩ (জগন্নাথপুর -শান্তিগঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিসের ব্যানারে প্রার্থী হয়ে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করার ও দরদী সমাজ গঠন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সকল মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে ইবাদত মনে করেন। ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। গত ১১ জুলাই সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন খেলাফত মজলিস। যেখানে সুনামগঞ্জ-০৩ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ কে প্রার্থী ঘোষণা করেন দল। যার ফলে এই আসনের জনসাধারণ, রাজনৈতিক কর্মী- সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৌহিদী জনতা ও শেখ মুশতাক আহমদ এর অনুসারী ও দলের কর্মী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা পরিলক্ষিত হয়।
হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ জানান,বর্তমান সময়ের সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, নৈতিক মূল্যবোধের ও বঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার সংকট রয়েছে। এগুলো দূর করতে হলে প্রকৃত ইসলামী চিন্তা-চেতনায় গড়ে ওঠা নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, খেলাফত-এ- রাশেদার রাজনৈতিক দর্শনই রাষ্ট্রের সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, একমাত্র এ নীতি ও দর্শন রাষ্ট্রের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। আগামী নির্বাচনকে সবার জন্য একটি সুন্দর আগামী নির্মাণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিতে চান। দল থেকে নমিনেশন পাওয়ার পর যদি ইসলামি জোট হয়,এবং সেই জোট থেকে যদি প্রার্থী করা হয় এবং জনগণ উনাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন, তাহলে তিনি এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য তথা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী- পেশার মানুষের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে জানান। তিনি বৈষম্যবিহীন একটি সমাজ প্রতিষ্টা করতে চান,যা আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করবে। ইতোমধ্যে তাহার সাধ্যমত এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে , হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদকে এই আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা কেনো প্রয়োজন এমন প্রশ্নে নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন, লন্ডন থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত সততা,পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত সৎ ও আমানতদার, দীর্ঘদিন থেকে আপামর জনসাধারণের সাথে গভীর সম্পর্ক,মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে সকল শ্রেণীর-পেশার মানুষের সাথে চলাফেরা করার কারণে জনগনের আকাঙ্ক্ষা পূরনে আগামী নির্বাচনে এই যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করা প্রয়োজন। অত্যন্ত মেধাবী এই মানুষটি বর্তমানে লন্ডনের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
শেখ মুশতাক আহমদ এর বুনিয়াদি শিক্ষা শুরু হয় সুনামগঞ্জ জেলার প্রাচীন ও পরিচিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর হাফিজিয়া হুসাইনিয়া দারুল হাদীস টাইটেল মাদ্রাসায় । দ্বীনি বুনিয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান শেখ মুশতাক আহমদ। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সুনামের সাথে অর্জন করেন।
ইংল্যান্ডে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তিনি মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্ৰন্থ আল কোরআনুল কারীমও হিফজ সম্পন্ন করেন। অতঃপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of London) বিশেষায়িত ও বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সোয়াস (SOAS) থেকে। পাশাপাশি তিনি আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ এর উপরও অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। সোয়াস (SOAS) ( ইউনিভার্সিটিতে) ছাত্র সংসদের প্রথম বাঙ্গালী ভিপি নির্বাচিত হন তিনি, যা বিলেতের ইতিহাসে প্রথম ও বিরল রেকর্ড। ভিপি হওয়ার সুবাদে ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইংল্যান্ড, এশিয়া ও আফ্রিকার একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎ এর সুযোগ পান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ও বিশ্বের মজলুম মানুষের পক্ষে জনমত গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, এ ছাড়াও তিনি সমসাময়িক জ্ঞান- বিজ্ঞানে পারদর্শী, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সেক্টরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
সকল ন্যায্যদাবী ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন – সংগ্ৰামে প্রবাসে থেকেও জোড়োলো ভূমিকা পালন করেন,সকল শ্রেণী -পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করে সকল ধরনের মানুষের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
প্রবাসে থেকেও জনগণের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় মানুষের চাহিদার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ও অগ্ৰাধিকার সম্পর্কে সম্মক অবগত। দীর্ঘমেয়াদী ও টেকশই উন্নয়নের চিন্তাধারা রয়েছে তাহার। দেশ ও জনগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে, উন্নয়ন স্টাডিজ নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন বিশ্বের সুনামধন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্টান থেকে,উন্নয়নের ব্যাপারে তার জুড়ি নেই। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করনে সম্পদের নায্য অধিকার ও পুনরবিতরণের মাধ্যমে দরদী সমাজ গঠন,সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপারে এই ফিল্ডে সর্বশেষ চিন্তা ও ধারনার সাথে গভীর পরিচিতি তিনি।
ইংল্যান্ডে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একজন নিরলস কর্মী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দেশীয়, আঞ্চলিক , আন্তর্জাতিক কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আপোষহীন তিনি। অবহেলিত জনগণের বঞ্চনা ও অবহেলার পরিসমাপ্তির দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসবহুল জীবন ছুড়ে ফেলে, খোলাফায়ে রাশেদার আদলে একটি খেলাফত ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি।