
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে ছাত্রদল এক নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ল্যাংড়া মুন্সির পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন রাত ৮টার দিকে ঢাকা থেকে এসে ইমরান ল্যাংড়া মুন্সির পুল এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে আবদুর রবের ফার্মেসির সামনে তার রিকশা থামিয়ে দেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মাইনুল মৃধা ও তার সহযোগীরা। এরপর তাকে পাশের মহিউদ্দিনের মুদির দোকানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ফেলে রাখা হয়।
আহত ইমরান হোসেন বলেন, “চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী যুবদল নেতা স্বপন মৃধা ছাত্রলীগ নেতা মাইনুলকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি বারবার প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছি, কিন্তু তারা মারধর থামায়নি। কেন আমাকে মারা হলো, সেটাও তারা বলেনি।”
ইমরানের মা নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেটা বিএনপি করাটাই কি তার অপরাধ? যারা আওয়ামী লীগ করে, তারাও তো অন্যায় করে বেড়াচ্ছে। আমার ছেলের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একটা নাক বন্ধ করলেও অন্য নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বপন মৃধার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ বলেন, “ইমরানের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। এক্স-রে রিপোর্ট পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে বরিশাল বা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে কি না।”