
মো. রাশিদুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি মৃৎপণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও আধুনিক ডিজাইনের সংযোজনে এই শিল্প এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থান করে নিচ্ছে।
বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগুজিরপুল পালপাড়ায় অবস্থিত ‘মা মৃৎ শিল্প’ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানার শ্রমিকরা। বাহারি রঙ ও নকশার তৈজসপত্র, খেলনা, শো-পিসসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করা হচ্ছে নিরলস পরিশ্রমে। ফিনিশিং ও প্যাকেজিংয়ের পর এসব পণ্য যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে—যেখান থেকে তা পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশের বাজারে।
প্লাস্টিকের ভিড়ে টিকে থাকা এক ঐতিহ্য ‘মা মৃৎ শিল্প’-এর প্রতিষ্ঠাতা কমল পাল বলেন, “প্লাস্টিকের পণ্যের আগ্রাসনে আমাদের পূর্বপুরুষদের মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল। তখন আমরা আধুনিক ডিজাইনের দিকে ঝুঁকি নিয়ে মৃৎপণ্যকে নতুন রূপে উপস্থাপন করি। এখন দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”
তিনি জানান, এই কারখানায় বর্তমানে ৪২ জন শ্রমিক কর্মরত। বাউফল পৌরসভার পালপাড়া, বগা ও কনকদিয়া অঞ্চলে প্রায় ৫০০০ নারী-পুরুষ এ শিল্পে নিয়োজিত। এসব পণ্য রপ্তানিতে সহযোগিতা করছে আড়ং, কোর দি জুট ওয়ার্কস, ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফটসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
মাটির সংকটে শিল্প বিপর্যস্ত তবে আশার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও।
কমল পাল জানান, “উপযুক্ত মাটি এখন সহজে পাওয়া যায় না। আটালের (মৃৎপণ্য তৈরির কারিগরি মাটি) সংকটে আমরা প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছি। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি সহযোগিতা জরুরি।”
বহু প্রজন্ম ধরে বয়ে আসা মৃৎশিল্প এখন শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বাউফলের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আরও প্রসারিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বিশ্ববাজারে।