
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দেওপাশা গ্রামে ইউপি সদস্য রিপন সিকদারের বাড়িতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ঘরের মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে। একই সময়ে পাশের একটি বাড়িতেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালানো হয়। বুধবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন সিকদার একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট থেকে তিনি নিরাপত্তার কারণে রাতের বেলা বাড়িতে থাকেন না। এই সুযোগে মুখোশ পরা ৭-৮ জন যুবক তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, পরে দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে লুটপাট চালায়।
রিপনের বাড়িতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়া মনির সিকদার বলেন, “ওরা বড় বড় রামদা গলায় ধরে ভয় দেখায়। আমার দুই সন্তান চিৎকার দিলে তাদের মুখে কাপড় গুঁজে দেয়া হয়। আমার স্ত্রী সন্তানদের চুপ করানোর চেষ্টা করে। পরে তারা আমার এবং রিপন সিকদারের ঘরের সব মালামাল লুটে নিয়ে যায় এবং ঘরের বেড়া খুলে পুকুরে ফেলে দেয়।”
প্রতিবেশী পুতল পাল (৬৫) জানান, “রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তখন বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। সকালে দেখি বাড়ি তছনছ করে ফেলেছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় মালেক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। রিপন সিকদারের স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, “মালেক পুলিশ ও তার দোসররা এর পেছনে জড়িত। তারা এর আগে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল, না দেয়ায় এ হামলা চালিয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত মালেক পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ। আমার স্ত্রীর দুটি কিডনিই নষ্ট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব বলা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার বলেন,“খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।