
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২৫ আগস্ট) ক্লাস শেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও লাইব্রেরি ভবনে মোট তিনটি তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, ক্লাস শেষে সহকারী মৌলভী ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ প্রথমে একটি তালা লাগান। এরপর নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ ওই তালার উপর আরও একটি তালা লাগান। পরে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির উদ্দিন মৃধা যোগ দিয়ে আরেকটি তালা লাগান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠান চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির উদ্দিন দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযোগ্যতার পরিচয় দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি তার ছেলে ইমরান হোসেনকে ছায়া সুপার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সব কাজে অন্যায় হস্তক্ষেপ শুরু করেন। এ অবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তদন্ত শেষে ইউএনও মো. আমিনুল ইসলাম গত ১ জুলাই মাসুম বিল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেন। কিন্তু নজির মৃধা এ সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে ২ জুলাই গোপনে আওয়ামী লীগপন্থী মো. খালিদ সাইফুল্লাহকে সভাপতি করে একটি বিতর্কিত এডহক কমিটি গঠন করেন এবং সেটি তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা বোর্ডে জমা দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেন।
বর্তমানে উক্ত এডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। বোর্ডে এডহক কমিটি বাতিলের আবেদন করা হলে তা তদন্তের জন্য ইউএনও বরাবর পাঠানো হয়। তদন্ত এখনও চলমান।
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির উদ্দিন মৃধা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমান সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নুরুন্নবী বলেন, “ঘটনাটি জেনে ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি জানার পরপরই উভয় পক্ষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত তালা খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে না। এটি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে।”