
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয়রা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ধুলিয়া ইউনিয়নের জাকির খানের মেয়ে কিশোরী ফারজানা আক্তার চলে আসেন দাসপাড়া ইউনিয়নের সিকদারবাড়ির কাওসার সিকদারের বাসায়। কাওসার স্থানীয় আইয়ুব আলী সিকদারের তৃতীয় ছেলে। ফারজানা তার বাড়িতে না ফিরে কাওসারের বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে কাওসারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কাওসার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এসময় কাওসারের ভগ্নিপতি ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক শাকিবুল ইসলাম জানান, “আমি উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের কলেমা পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছি, তবে এখনো কাবিননামা সম্পন্ন হয়নি।” কিন্তু এলাকাবাসী জানান, কাবিননামা ছাড়া এমন সম্পর্ক সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ নিয়ে শুরু হয় উত্তেজনা, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, কাওসার, তার ভাই এবং ভগ্নিপতি মিলে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে লোকমান, রিমা বেগম, পারভেজ ও মিনারা বেগমসহ অন্তত সাতজন আহত হন। হামলাকারীরা পারভেজ শিকদারের দোকান ভাঙচুর করে ৩-৪ হাজার টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে কাওসারের বাবা আইয়ুব আলী শিকদার ও কাওসার পুনরায় লোকজন নিয়ে পাল্টা হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। কাওসার শিকদার আহতদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।
মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ: এ ঘটনার পর কাওসারের পরিবার স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ভুল তথ্য দিয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন করান বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে কাওসারের বাবা দাবি করেন, “আমার ছেলে মাদক খেতে নিষেধ করায় প্রতিপক্ষ তাকে মারধর করেছে।”
সংবাদ সম্মেলন: বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এটি কোনো মাদক সংক্রান্ত ঘটনা নয় বরং একটি অনৈতিক সম্পর্ক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।