
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘ চার দশক ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রাস্তাটি বর্তমানে এতটাই খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে যে বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা-পানিতে পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচলের তো প্রশ্নই উঠে না, শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে কাদা ভেঙে মাদ্রাসায় যাতায়াত করে, আর প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হন অনেকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজাপুর গ্রামের ফকির বাড়ির সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কটি সম্পূর্ণ মাটির তৈরি। এটি ১৯৮৫ সালে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছিল। তবে এরপর আর কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবস্থাপনায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। রাস্তার অসংখ্য গর্তে জমে থাকা পানি ও কাদা পথচারীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী উম্মে খাদিজা, ফাতেমা আক্তার ও জান্নাত আক্তার জানান, বর্ষায় নিয়মিত মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব হয় না। প্রায়ই রাস্তায় পিছলে পড়ে আহত হতে হয়। তারা দ্রুত এই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া (৫৫) বলেন, “এই রাস্তাটি দিয়ে আশপাশের ৪-৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। কিন্তু বর্ষা এলেই এই রাস্তা একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।” তিনি আরও জানান, এই রাস্তার কারণে অনেক সময় এলাকায় বিবাহ-শাদী সম্পর্কেও অনীহা দেখা দেয়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস হোসেন জানান, “প্রায় ৪০ বছর ধরে এই রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নানা সময় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”
রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজাহার উদ্দিন বলেন, “১৯৮৫ সালে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় এলাকাবাসী মিলে রাস্তাটি তৈরি করেছিলেন। এখন সেই রাস্তাই হাজারো মানুষ এবং শতাধিক শিক্ষার্থীর একমাত্র যাতায়াতের পথ। কিন্তু বর্ষায় এটি একেবারেই অচল হয়ে পড়ে। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে, যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সদিচ্ছা দেখা যায়নি। অবিলম্বে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।