
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জন্ম নিবন্ধন একটি অপরিহার্য দলিল। এটি কেবল একটি সাধারণ পরিচয়পত্র নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, বিয়েসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু এই অপরিহার্য দলিলটি তৈরি করতে গিয়ে নাগরিকদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানি।
কেন এই ভোগান্তি?
১. অনলাইন জটিলতা: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রেই জটিল। সার্ভার ডাউন থাকা, সাইটে প্রবেশ করতে না পারা, ভুল তথ্য আপলোড হওয়া—এসব কারণে আবেদনকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
২. প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব: আবেদনকারীকে এমন কিছু কাগজপত্র দিতে বলা হয় যা সংগ্রহ করা অনেক কঠিন। যেমন, বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে অনেক সময় আবেদন গ্রহণ করা হয় না। পুরনো প্রজন্মের অনেকেরই এসব দলিল না থাকায় সমস্যা আরও বাড়ে।
৩. আর্থিক হয়রানি: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন ফি খুবই সামান্য। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে অসাধু চক্রের হাতে পড়তে হয়। দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দালালরা ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে।
৪. দীর্ঘসূত্রিতা: আবেদন জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের পর দিন অফিসের চক্কর কেটেও কাজ হয় না। নির্ধারিত সময়ে দলিল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল ভর্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও আটকে যায়।
প্রতিকার কি?
জন্ম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে।
অনলাইন সার্ভারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দেওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা আরও বাস্তবসম্মত করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
অফিসগুলোতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার।
জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ হলে তা কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই কমাবে না, বরং ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণেও সহায়তা করবে।