
মোঃ রাশিদুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কানাই-বলাই দিঘী। স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় তিনশত বছর আগে খনন করা হয়েছিল এ বিশাল দিঘী। আনুমানিক ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪০ মিটার প্রস্থের এই জলাধার শুধু পানির উৎসই নয়—এটি এখন ইতিহাস, কিংবদন্তি আর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতীক।
এক কিংবদন্তির নাম ‘কানাই-বলাইঃ
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে নানা গল্প। বলা হয়ে থাকে, প্রায় শত বছর আগে কাছিপাড়া গ্রামে কানাই ও বলাই নামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই ভাই বাস করতেন। একদিন ভুল করে তারা খেজুর গাছের বাঁকল ভেবে বসেছিলেন বিশাল আকারের দুটি গজাল মাছের ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই মাছ দুটি তাদের গভীর জলে টেনে নিয়ে যায়। এরপর আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই থেকেই এ দিঘীর নামকরণ হয় কানাই-বলাই দিঘী।
আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে ভক্তদের মিলনমেলাঃ
স্থানীয়দের মতে, এই দিঘীর পানিতে রয়েছে রহস্যময় আধ্যাত্মিক শক্তি। ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মনবাসনা পূরণ হয়, আর অবজ্ঞা করলে জীবনে নেমে আসে বিপদ। এ বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মানত করে এসে দিঘীতে স্নান করেন। কেউ শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতার জন্য, আবার কেউ মনোবাসনা পূরণের আশায় এখানে আসেন।
প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ৯-১১ তারিখ দিঘীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয় ওরশ মাহফিল। তখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ ভক্তি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা নিয়ে সমবেত হন। এ সময় দিঘীর পাড় পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়।
সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী দিঘীঃ
বর্তমানে দিঘীটির এক-তৃতীয়াংশ ভরে গেছে আগাছা, কচুরিপানা ও মাটিতে। ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার পূর্বের সৌন্দর্য ও মহিমা। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিলে কানাই-বলাই দিঘী আবারও হয়ে উঠতে পারে বাউফলের এক অনন্য দর্শনীয় স্থান।
রূপকথা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনেই কানাই-বলাই দিঘী আজও মানুষকে টেনে রাখছে রহস্য ও ভক্তির আবেশে।