
মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
ভিডব্লিউবি ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি চাল বিতরণের জন্য প্রস্তুতকৃত তালিকায় অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বরগুনার বামনা উপজেলার ৪ নম্বর ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সালেহ হাওলাদারের অপসারণ চেয়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। চাল বিতরণ শুরু হওয়ার আগেই তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) বিকেল ৫ ঘটিকায় বামনা উপজেলার ৪নং ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ডের
স্থানীয়দের আয়োজনে,গুদিঘাটা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
০৫ নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইনে আবেদন করার পরও তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ এনেছেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন মিলন,ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনসুর মৃধা,ইউনিয়ন জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশের সদস্য জামাল মাস্টার,ইউনিয়ন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান,বিএনপি’র আমিন মোল্লা,হারুন হাওলাদার,আবুল কালাম হাওলাদার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাংবাদিক বৃন্দ।
মানববন্ধনে ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি মিলন বলেন চেয়ারম্যান আবু সালেহ দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছেন, যার কারণে প্রকৃত অসহায় গরিবেরা বাদ পড়েছেন,সচ্ছলদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে গরিবদের নাম তালিকার সংযুক্ত না করা পর্যন্ত ৫নং ওয়ার্ডে কোন চাল বিতরণ করতে দেওয়া হবে না এবং এই দুর্নীতির সাথে ইউনিয়ন সচিবও জড়িত।
ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোঃ রাজু বলেন আমার উপর আনিতো অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, ভিডব্লিউবি এর
৬০৫টি নাম পেয়েছি, চেয়ারম্যান মেম্বাররা মিলে তালিকা প্রস্তুত করেছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাফরিন জাহান বলেন ১৬/১৭টি নামের অনিয়মের কথা জেনেছি,
উপজেলা ইউএনও স্যারের নির্দেশে তদন্ত করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
পাথরঘাটা কমিশনার ভূমি ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: পলাশ আহমেদ বলেন অভিযোগ পত্র পেয়েছি,
উক্ত ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ডের ভিডাব্লিউবি এর তালিকায় কোন অনিয়ম থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদের কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.আবু সালেহ হাওলাদার সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে কয়টি নাম পেয়েছি তা ০৯ ওয়ার্ডের মেম্বারদের ভীতরে ভাগ করে দেয়া হয়েছে, মেম্বাররা যদি অনিয়ম করে থাকে ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।