
মোঃ রাশিদুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোগীর নাম মো. সানু (৫০)। তিনি বাউফল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্স চালককে ফোন করা হলেও তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি করে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান। এ সময় অতিরিক্ত বিলম্বের কারণে গুরুতর অসুস্থ সানুকে বরিশালে নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং তিনি মারা যান।
মৃত সানুর চাচাতো ভাই মো. জাকির হোসেন (৩৪) বলেন,
“সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে থাকলেও চালককে বারবার ফোন করে কোনো সাড়া পাইনি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না আসায় আমার ভাইকে বাঁচানো যায়নি। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান (৫৫) বলেন,
“যদি সঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স আসত, আমার ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হতো। চালকের অবহেলার কারণেই আজ সে আর বেঁচে নেই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“অ্যাম্বুলেন্স চালক বাসায় বসেই আমাদের ৫ মিনিট বলে দুই ঘণ্টা দেরি করিয়েছেন। সময়মতো বরিশালে নিতে পারলে আমার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন। আমি কঠোর বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন,
“আমি অসুস্থ ছিলাম। তারপরও তাদের বলেছিলাম এক ঘণ্টার মধ্যে আসব এবং এসেছি। আমি সবসময় দায়িত্ব পালন করি। আমার অবহেলার প্রমাণ দিলে আমি শাস্তি মেনে নেব।”
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ বলেন,
“আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রোগী ও স্বজনদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি ডাক্তারদের কথাও উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমতো দায়িত্ব পালন করেন। তার এমন আচরণে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।