
মোঃ রাশিদুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চলছে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য—এমন অভিযোগ তুলেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তারা দাবি করেছেন, জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে বাধ্যতামূলকভাবে ঘুষ দিতে হচ্ছে, অন্যথায় বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী মহাসিন পঞ্চায়েত অভিযোগ করেন, স্থানীয় উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের ঘুষ দাবির কারণে তিনি টানা তিন থেকে চার বছর ধরে জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দিতে পারেননি।

তিনি জানান, তার ১২৩ জেল ও ১৩৫৩ নম্বর খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ করতে বারবার অফিসে গেলেও কাজ হয়নি। বাইরে থেকে অনলাইনে খাজনা দিতে চাইলেও তাকে জানানো হয়, অফিস থেকেই করতে হবে এবং এর জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। “প্রতি খতিয়ান ১,৫০০ টাকা দিতে হবে, নইলে কাজ হবে না”—এমন দাবি শোনার পর বাধ্য হয়ে একটি খতিয়ানের জন্য ১,৫০০ টাকা ঘুষ দেন তিনি। টাকা দেওয়ার পরই তার ফাইল অনুমোদন করা হয়।
মহাসিন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে করা একটি দলিল নিয়েও তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তরিকুল ইসলাম তাকে জানান, দলিলটি ভুয়া এবং ৩০-৩৫ বছরের খাজনা দিতে হবে। এতে ৮ হাজার টাকার বেশি খাজনা ধার্য করা হয়, ফলে এখনো তিনি তা পরিশোধ করতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তার কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা নিয়েছি, ওই টাকা দিয়েই খাজনা পরিশোধ করেছি। ঘুষ নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। বাইরে থেকে লোকজন এনে কাজ করাতে হয় বলে কিছু অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।”

তবে মহাসিনের দাবি, তিনি সরকারি খাজনার টাকা নিজস্ব নগদ একাউন্ট থেকে পরিশোধ করেছেন, কর্মকর্তা কেবল ঘুষ নিয়েছেন।
শুধু মহাসিন নন, কালাইয়া ইউনিয়নের আরও একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, “এই অফিসে ১০০ টাকার কাজ করতে গেলে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। নইলে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো কাজ হয় না।”
বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসের এ ধরনের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।