
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ, সাংবাদিক ইসলামি কলামিস্টঃ
বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা হতে পারে ইসলাম। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম—যার মূল শিক্ষা হলো মানবতা, ভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পরের ভাই।” (সূরা হুজুরাত: ১০)
এ আয়াতই প্রমাণ করে, মুসলমানদের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও বিভেদ নয় বরং ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতিই মূল নীতি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেই জিনিসই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এ শিক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে। ইসলাম শত্রুতা নয়, ক্ষমা ও মমতা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।
সম্প্রীতি রক্ষা কেবল ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত—যেখানে সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতা থাকবে, সেখানেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অতএব, আমাদের উচিত ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করা, সমাজে বিদ্বেষ নয় বরং ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। এর মাধ্যমেই একটি শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?