
আনিসুর রহমান নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বসতভিটা, খাসজমি, নদী ও সড়ক দখলের অভিযোগ উঠেছে আল মোস্তফা গ্রুপের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক দখল কার্যক্রম চললেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিরব ভূমিকা পালন করছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর ইউনিয়নের আশাঢ়িয়ার চর এলাকায় মেঘনার শাখা নদীর এক-তৃতীয়াংশ বালু দিয়ে ভরাটের ঘটনা সরেজমিনে দেখা গেছে। এ সময় দেখা যায়, কিছু ঘরবাড়ি, গরুর খামার ও ফলজ গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাদের ব্যক্তিগত জমি, খামার ও বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার গরুর খামার ও বাড়ি বালু ভরাট করে দখল করা হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।” একই গ্রামের সুমি আক্তার জানান, “আমরা প্রতিবাদ করলে রাতেই হামলার ভয় দেখায় তাদের লোকজন।”
উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে মিথ্যা অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, “আওয়ামী লীগের আমলে ছলচাতুরী করে খাস জমি ও নদী ভরাটের নামে দখল চলছে।”
অভিযোগের বিষয়ে আল মোস্তফা গ্রুপের কর্ণধার মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা বালু ভরাট বন্ধ করে দিয়েছি। এটি কোম্পানির নিজস্ব জমি, প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে রাস্তা ব্যবহৃত হবে।”
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিকুর রহমান জানান, “ঘটনা জানার পর আমরা বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, অব্যাহত দখল ও প্রশাসনের ধীর পদক্ষেপে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।