
আনিসুর রহমান সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় যুবক নাজমুল হুদা। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র তার ৪৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল জানান, সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের আলাপদী গ্রামের কৃষ্ণাদি মৌজায় তার পৈত্রিক জমি রয়েছে। একই ইউনিয়নের ষোলপাড়া গ্রামের, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহ্বায় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক ভূমি দস্যু রফিকুল হায়দার বাবু ( টিভি বাবু) তার সহযোগী
পান্না ও শামীম হায়দার,
তৎকালীন আওআমী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নাজমুল হুদার প্রয়াত বাবা এম এ বাসেদের কাছ থেকে রাতের অন্ধকারে ১২০ শতাংশ জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করিয়ে নেন। বাবার মৃত্যুর পর সেই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হলেও, পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি কক্ষে নিয়ে ৪৩ শতাংশ জমির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
নাজমুল আরও জানান, দলিল বাতিলের দাবিতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও, সম্প্রতি তার জমিতে সাঁটানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবু, পান্না ও শামীমের সহযোগী এবং সোনারগাঁ উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক কাজী নাজমুল ইসলাম লিটুর বিরুদ্ধে। লিটুর বাবা কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বর্তমানে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি। নাজমুল হুদা বললেন প্রথম অবস্থায় আমি টিটু সাহেবকে বিষয়টি জানালে আমাকে সঠিক বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে অর্থলোভী টিটু ও লিটু, আওয়ামী লীগ নেতা বাবু, পান্না ও শামীমের হয়ে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারি ফলশ্রুতিতে আমার জমিতে সাঁটানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে।
নাজমুল হুদা আরও বলেন আমি এনসিপি সমর্থক বলে আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে নানাবিধ কথা শোনায় এবং সময় মত দেখে নেবার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নাজমুল হুদা। তিনি জানান, জমি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
অভিযুক্ত কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু বলেন, জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি বালু ভরাটের দায়িত্ব নিয়েছেন। সাইনবোর্ড ফেলে দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।