
আনিসুর রহমান সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চর চেঙ্গাকান্দী এখন ধোঁয়ার নগরীতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত— চারপাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে থাকে। সূর্যের আলো দেখা যায় না, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাস।
🔥 ফিল্টারবিহীন স্টিল মিলের বিষধোঁয়াঃ
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের এইচকেজি (HKG) স্টিল মিলে কোনো ফিল্টারিং ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন টনকে টন ধোঁয়া ও কালো ছাই নির্গত হয়ে মানুষের জীবন, ফসল ও পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
😷 মানবেতর জীবনযাপনঃ
গ্রামের মানুষ এখন শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও মাথাব্যথায় ভুগছেন। বিশেষ করে শিশুরা ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। অনেকেই ফুসফুসের রোগে ভুগছেন। কৃষকদের অভিযোগ— ধোঁয়ার কারণে গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে, ফসলের ফলনও মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বলেন, “বছরের পর বছর আমরা এই ধোঁয়ার যন্ত্রণা সহ্য করছি। বারবার বলার পরও মিল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা শুধু লাভের চিন্তা করে, মানুষের কষ্ট তাদের কাছে কিছুই না।”
🏢 প্রশাসনের নীরব ভূমিকাঃ
পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, মিলটিতে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নেই। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে ছড়াচ্ছে, অথচ প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”
এ বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের প্রশ্ন “যখন শ্বাসই নিতে পারছি না, তখন কি আমরা অভিযোগ লিখতে যাব, নাকি আগে বাঁচব?”
⚠️ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিপদ সংকেতঃ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এভাবে ধোঁয়া নির্গমন চলতে থাকলে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়বে। শিশু ও প্রবীণদের জন্য পরিস্থিতি হতে পারে প্রাণঘাতী।
🏭 মিল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাঃ
এইচকেজি স্টিল মিলের ম্যানেজার মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, “আমাদের মিল আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। কখনও কখনও বাতাসের কারণে এমন ধোঁয়া দেখা দেয়। আমরা বিষয়টি মনিটর করছি।”
তবে সাংবাদিকরা মিলের ভেতরে ছবি তুলতে চাইলে তিনি অনুমতি দেননি। স্থানীয়দের মতে, এই বক্তব্য কেবল বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা।
✊ স্থানীয়দের দাবিঃ
চর চেঙ্গাকান্দীর মানুষ একটাই দাবি তুলেছেন “দূষণ বন্ধ করো, জীবন বাঁচাও।”
তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।