
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ
সাংবাদিক, ইসলামিক কলামিস্ট ও আলোচক
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন, ঢাকা।
মানবতার মর্ম ও ইসলামের আহ্বানঃ
মানবজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত আছে অন্যের উপকারে। যে মানুষ নিজের স্বার্থ ভুলে অন্যের সেবা করে, সে-ই প্রকৃত মুসলমান। ইসলামে এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা বা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম (খিদমতে খালিসাহ)-কে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
ইসলাম শেখায়— মানুষের কল্যাণে কাজ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি এক মহান সওয়াবের কাজ।
কোরআনের দৃষ্টিতে স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্বঃ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন—
তোমরা একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা কর সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে, কিন্তু পাপ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল-মায়িদা: ২)
এই আয়াত সমাজকল্যাণে অংশগ্রহণের মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করেছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায় হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা।
আরেক আয়াতে মহান রব বলেন— যে ব্যক্তি একটি প্রাণকে বাঁচাসে যেন সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচাল।” (সূরা মায়িদা: ৩২)
অর্থাৎ একজন স্বেচ্ছাসেবীর কাজ কেবল একজন মানুষকে সাহায্য করা নয়; বরং মানবতার সুরক্ষা করা।হাদীসের আলোকে স্বেচ্ছাসেবার মহিমা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন—
মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে মানুষের উপকারে আসে।” (সহিহ বুখারী)
আরেক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন—
যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে সহযোগিতা করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজনে সাহায্য করেন।” (সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ, স্বেচ্ছাসেবী হওয়া মানেই আল্লাহর সাহায্যের যোগ্য হয়ে ওঠা।