
কামরুজ্জামান সোয়েব, টাংগাইল জেলা প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি গত দুই দশক ধরে সাংগঠনিক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। শহরের নিজস্ব কার্যালয় হারানোর পর থেকে দলটি এখানকার রাজনীতিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ জেলা সম্মেলনের তিন বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের আস্থা রয়ে গেছে তিন নেতার প্রতি—অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও লুৎফর রহমান খান আজাদ তারা যথাক্রমে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) টাঙ্গাইল-৫ (সদর), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী।
টুকু টাঙ্গাইল-৫ এ জনপ্রিয়
কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রভাবশালী মুখ। দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
পিন্টু টাঙ্গাইল-২ এ অভিজ্ঞ নেতা
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন জেলা নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ আসনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তিনি ১৭ বছর কারাবরণ করেন। যদিও মামলা এখনো বিচারাধীন, তার দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব এবং নির্যাতনের বর্ণনা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অর্জন করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তির পর তিনি নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারা জানান, তার সততা, সরলতা ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাকে আবারো জনপ্রিয় করেছে।
টাঙ্গাইল-৩ এ অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় আজাদ।
লুৎফর রহমান খান আজাদ ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের হ্যাবিওয়েট প্রার্থী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান খান শাজাহানকে পরাজিত করায়, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বারেই ত্রান ও শিল্প প্রতি মন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে, সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে, সেই সাথে ঘাটাইলের ব্যপক উন্নয়ন করে।
এরপর পরে লুৎফর রহমান খান আজাদ সাহেব পিছনে ফিরে নি, উন্নয়নের প্রতিদান জণগণ ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে,
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও এই আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রতীক আজাদ সাহেব।
২০০১ সালের নির্বাচনেও আজাদ সাহেব নির্বাচিত, টাঙ্গাইলে হেট্টিক করা ব্যক্তি লুৎফর রহমান খান আজাদ
দলীয় সিদ্ধান্ত
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসনে পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনে টুকুকে টাঙ্গাইল-৩ আসনে আজাদ মনোনয়নের বিষয়ে ইতিবাচক।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, সাংগঠনিক দুর্বলতার মধ্যে এই তিননেতাই দলের জন্য নির্ভরযোগ্য মুখ।
তাদের ভাষায়, “তারা দুঃসময়ে ছিলেন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কর্মীদের পাশে থেকেছেন—এখন দলের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।