
ক্রাইম রিপোর্টার : মো: রাজীব খাঁন
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিনতাই, খুন ও গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষ এখন গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও অপরাধ প্রবণতা কমছে না—বরং নগরজুড়ে নতুন নতুন অপরাধ চক্র গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাপ্রবাহ ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি:
গত কয়েক মাসে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নগরীর বোয়ালিয়া, মতিহার, রাজপাড়া ও শাহমখদুম থানার আওতাধীন এলাকাগুলোতে এসব ঘটনার মাত্রা বেড়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, রাতের আঁধারে পথচারী ও রিকশাচালকদের লক্ষ্য করে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ছিনতাই প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ।
জনমনে আতঙ্ক: নগরবাসীর অভিযোগ, রাত ৮ টার পর রাজপথে নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে ঘরে ফিরছেন সন্ধ্যার আগেই। রাজশাহীর সাহেববাজার, বিনোদপুর, কোর্ট স্টেশন ও হেতেমখাঁ এলাকার বাসিন্দারা বলছেন আগে এমন ভয় ছিল না, এখন মনে হয় শহরটাই অনিরাপদ হয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) এক কর্মকর্তার মতে, শহরে ছোট-বড় অপরাধচক্রগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি, বেশ কিছু অপরাধী চক্র শনাক্ত করা হয়েছে। নাগরিকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে তরুণদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধ দমন না হলে রাজশাহী শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
রাজশাহীর মতো শান্ত শহরে অপরাধের লাগাম টানতে না পারলে জনমনে যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন নাগরিক সমাজ। তাই দ্রুত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও কঠোর আইন প্রয়োগই এখন সময়ের দাবি।