
শোয়েব হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকার বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র মতিঝিলের শিক্ষা মানচিত্রে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী নাম হলো টি অ্যান্ড টি কলেজ। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে দেশের মধ্যম ও উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলেজটি তার শিক্ষাব্যবস্থা, অবকাঠামো, সেবার মান এবং পরিচালনাগত উৎকর্ষতায় নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করে তুলেছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শ ও পরিচালনা:
টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের বিষয়সমূহ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়—জ্ঞান, চরিত্র, মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সমাজসেবায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা।
উন্নয়ন ও অগ্রগতি:
গত কয়েক দশকে টি অ্যান্ড টি কলেজ শিক্ষা অবকাঠামো, পাঠদানের আধুনিকীকরণ, প্রশাসনিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক সেবায় প্রশংসনীয় উন্নতি সাধন করেছে। শ্রেণিকক্ষের আধুনিকায়ন, অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা চর্চায় প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এ ছাড়া কলেজ পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষাঙ্গনে শান্ত, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সুনাম ও সফলতার ধারাবাহিকতা:
প্রতিষ্ঠার পর থেকে টি অ্যান্ড টি কলেজ বিভিন্ন সময়ে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন বহু শিক্ষার্থী সরকারি-বেসরকারি খাত, শিক্ষা, ব্যাংকিং, শিল্প ও সৃজনশীল পেশায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছেন।
যদিও নির্দিষ্ট কোনও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর নাম প্রতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে “শিক্ষার মান”, “শৃঙ্খলা” ও “পরিচালনার দক্ষতা”—এই তিন গুণে সমানভাবে সমৃদ্ধ অবস্থান ধরে রেখেছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অবদান:
প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান পর্যন্ত যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সুনাম রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান কলেজের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়।
বর্তমান অধ্যক্ষ নূর হোসেন কলেজ পরিচালনায় নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষায় সুশৃঙ্খলতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলির চর্চায় আরও অগ্রসর হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষকবৃন্দ ও কলেজ সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টি অ্যান্ড টি কলেজ আজ দেশের শিক্ষাঙ্গনে একটি গুণগত মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত।
উপসংহার:
টি অ্যান্ড টি কলেজ—শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি গত ছয় দশকে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলো ছড়ানো এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাদর্শন, অগ্রগতি, সুনাম ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে কলেজটি ঢাকার উচ্চশিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে আজও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।