
ক্রাইম রিপোর্টার, রাজিব খাঁন
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাত্র ৫ টাকার ভাড়াকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। উপজেলার বেলগাছি গ্রামে ভ্যানচালক আলম (৪৪) প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মুজিবর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন বর্বরোচিত হামলায় পুরো এলাকা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাড়ার টাকা নিয়ে
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আলম ও অভিযুক্ত মুজিবর। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং আলমকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি—ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মুজিবর রহমানকে ধরে বেলগাছি পাঠক ক্লাবে আটকে রাখে এবং গণপিটুনির চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় পুলিশের এ এস আই বেলালউদ্দিন সহ অন্তত দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।
পরে মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি আংশিক শান্ত হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত মুজিবরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার, মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান এবং র্যাব-৫ এর সদস্যরা। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মোহনপুর থানার ওসি জানান, “এটি একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে বেলগাছি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক এবং বিচারহীনতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।