
মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে এক নারীকে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে করে ছয় মাস সংসার করার
পর মারধর করে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকালে মহিউদ্দিনের আরও দুই স্ত্রী ওই নারীকে মারধর করে ভাড়া বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনলাইনে কাজের জন্য তিনি কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর তারা তালতলী বাজারে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ছয় মাস বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী নারী উপজেলার উত্তর ঝাড়াখালী গ্রামের ইসমাইল শিকদারের মেয়ে খাদিজা আক্তার শারমিন।
নারীর দাবি, সম্প্রতি নানা অজুহাতে মহিউদ্দিন তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার তিনি বাসায় ফিরে এলে মহিউদ্দিনের দুই স্ত্রী এসে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মহিউদ্দিন আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছে। ভুয়া কাবিনে বিয়ে করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে ওই প্রতারক মহিউদ্দিন। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মহিউদ্দিন তালুকদারের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে একজন বলেন, “মহিউদ্দিন বাইরে গেছেন, আমি সুমন বলছি”—বলে ফোন কেটে দেন।
কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম পনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।