
নাজমুল আদনান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাকড়াই বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী মোসাঃ চম্পা বেগম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নয়নচালা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবু ছাইদ মুন্সি মাকড়াই বাজারে মনোহারী ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা বেআইনিভাবে তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসামিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলা ও জখম:
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪নং আসামির নির্দেশে ১নং আসামি ধারালো দা দিয়ে আবু ছাইদ মুন্সির মাথার পেছনে কোপ মারে। ২নং আসামি চাপাতি দিয়ে মাথার মাঝখানে কোপ দিয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এসময় ৫নং আসামি তাকে জাপটে ধরে রাখে এবং ৩নং আসামি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা লোহার পাইপ ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
লুটপাটের অভিযোগ:
মারপিটের একপর্যায়ে আসামিরা আবু ছাইদ মুন্সির পকেটে থাকা ব্যবসায়িক নগদ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা, গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং হাতের ৩ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা:
আহত ব্যবসায়ীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদী চম্পা বেগম জানান, আসামিরা এলাকায় উশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা আসছিল। স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।