
মোঃ সোহরাব হোসেন মুন্সি, নিজস্ব প্রতিনিধি:
দাকোপ-বটিয়াঘাটা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসন জাতীয় রাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি আসন। দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরিবর্তনের ধারা দেখা গেছে। স্থানীয় ভোটারা এখন আলহাজ্ব আমির এজাজ খানকে জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।এই নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
আলহাজ্ব আমির এজাজ খান নব্বইয়ের দশকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতি সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে আসছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ৪৭ হাজার ভোট লাভ করেন। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও তিনি অংশ নেন এবং হামলা,মামলা,নির্যাতন সহ্য করে তিনি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য ৬ জন প্রার্থীর দৌড় ঝাপ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে আমির এজাজ খানের পক্ষেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। এ আসনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।যার মধ্যে ইসলামি ফ্রন্ট, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ৮ জনই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের।এর মধ্যে থেকেই আলহাজ্ব আমির এজাজ খান মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও অথিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায় বেছে নেয় তাদের জনপ্রিয় প্রার্থীকে।যিনি স্বাধীনতার পক্ষের একটি দলের হয়ে লড়াই করেন স্বাধীনতার বিপক্ষে। হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বক্তব্য ছিল আমরা স্বাধীনতার বিপক্ষের কোন প্রার্থীকে ভোট দেব না।যে কথা, সেই কাজ।তাদের সেই সংখ্যাঘরিষ্ট ভোটের কারনেই ৫২ হাজর ভোটের ব্যাবধানে বিজয় লাভ করেন বিএনপি।যা আমির এজাজ খানের সব থেকে বড় একটি অর্জন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-১ আসন-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, আলহাজ্ব আমির এজাজ খান মন্রীসভায় স্থান পেলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে তিনি এই আসনটি ভবিষ্যতে ধরে রাখার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
দাকোপ ও বটিয়াঘাটা এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও অংশগ্রহণকে অনেকেই ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।তাই এই ভবিষ্যৎ শিল্প অঞ্চলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমির এজাজ খানকে মন্ত্রী সভায় দেখতে চায় এই অঞ্চলের মানুষ।যা তাদের প্রানের দবি।