
মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ‘পরিকল্পিত ফাঁসানো’ এলাকাবাসীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য
মোঃ ইউনুছ , মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে ওই ব্যবসায়ীকে ফাঁসানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অনুসন্ধানে ধীরে ধীরে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পৈয়াপাথর গ্রামের বাসিন্দা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করতেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই বছর আগে আদর্শ ও সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে “পৈয়াপাথর সমাজকল্যাণ পরিষদ” নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সংগঠনটির সদস্য হিসেবে অলি এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। এর জেরে স্থানীয় কিছু কথিত মাদক কারবারির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এলাকার কথিত মাদক কারবারি আনোয়ার ও তার স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে সোর্স সোহাগের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে অলির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬৯ পিস ইয়াবা রেখে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। পরে ঘটনাটিকে মাদক উদ্ধারের নাটকীয় রূপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় অলি প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাদের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, পরবর্তীতে একটি সামাজিক বৈঠকে শতাধিক এলাকাবাসীর সামনে অভিযুক্ত আনোয়ার ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন এবং বিষয়টি উল্লেখ করে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে পৈয়াপাথর গ্রামে শতাধিক এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি কাউকে এভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তবে সমাজে মাদকবিরোধী আন্দোলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বক্তারা আরও বলেন, এলাকাবাসী এখন মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। যে কোনো মূল্যে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে হয়রানির ঘটনা নয়, বরং মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে