
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
চাঁদা না পেয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে এক সহকারী পুলিশ সুপারের পিতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে স্থানীয় এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় কাবিল মৃধা (৩৪) নামের ওই যুবলীগ নেতা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নিজবটকাজল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আটক কাবিল মৃধা মৃত রুস্তুম আলী মৃধার ছেলে। তিনি নওমালা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৬টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সহকারী পুলিশ সুপারের বাবা আব্দুল মোতালেব চৌকিদার বাউফল থানায় কাবিল মৃধার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ কাবিলকে গ্রেফতার করে শুক্রবার পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবিল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মোতালেব চৌকিদারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল মোতালেবের বড় ছেলে মহিউদ্দিনকে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় ডেকে নিয়ে চাঁদার টাকা চান কাবিল। টাকা না পেলে সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে হামলার হুমকি দেন।
পরে ওই রাতেই কাবিল মৃধা তাদের গ্রামের বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় আব্দুল মোতালেব ও তার ছেলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে কাবিলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তম-মাধ্যম দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশে খবর দিলে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার বলেন, “আটক কাবিল মৃধা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে নওমালা ইউনিয়ন যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হলেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ভুক্তভোগী আব্দুল মোতালেব চৌকিদার বলেন, “সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না পেয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে।”