
মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে বরগুনার অভিযান ১০ লঞ্চে ভয়াবহ আগুন লেগে মুহুর্তেই প্রান হারায় অর্ধশত মানুষ।
২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে ঘাট ত্যাগ করে অভিযান ১০। পরে চাঁদপুর ঘাট দিলে চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের জেলা থেকে আসা আরো যাত্রী উঠে লঞ্চ একদম ভর্তি হয়ে যায়। শীতের রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা ও কুয়াশা ভেদ করে বরগুনার দিকে এগিয়ে যায় লঞ্চটি। এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই রাত ২ টার দিকে বরিশালে ঘাট দিলে বরিশাল ও এর আশেপাশের যাত্রীরা নেমে যায়।
পরে বাকি যাত্রী নিয়ে আবারো বরগুনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লঞ্চটি। কিন্তু কে জানতো যে কিছুক্ষণ পরেই অপেক্ষা করছে ভয়াবহ বিপদ?
বরিশাল ছেড়ে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌছালেই লঞ্চটিতে চলন্ত অবস্থায় আগুন লেগে যায়। এমনকি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পরে পুরো লঞ্চে। মাঝরাতে ঘুমন্ত অধিকাংশ যাত্রীই টের পায়নি যে এত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
প্রথমেই যারা টের পেয়েছিলো তারা অনেকেই জীবন বাচাতে নদীতে ঝাপ দেয়। কিন্তু কেবিনে থাকা অধিকাংশ যাত্রীরই ঐদিনের পরে আর ঘুম ভাঙেনি। আগুন এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে অনেকেই বের হতেই পারেনি।
সবচেয়ে নির্মম বিষয় ছিলো যারা সাতার জানতো না তারা জীবন বাচাতে পানিতেও ঝাপ দিতে পারতেছিলো না।কারন ঝাপ দিলে ডুবে মরবে আর না দিলে পুড়ে মরবে।
সর্বনাশা আগুন সেদিন নিভেছিল সবকিছু শেষ করে। সরকারি হিসেবে সেদিন আগুনে পুড়ে প্রায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো এবং আহত হয়েছিলো প্রায় ৭০/৮০ জনের মতো। একসাথে এতো মানুষের মৃত্যুতে সেদিন ভারী হয়ে উঠেছিলো বরগুনার আকাশ-বাতাস। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় সারাদেশের মানুষ।
কারন বাংলাদেশের নৌ সেক্টরে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। পানি যেখানে আগুন নেভায় সেখানে পানির উপরেই আগুনে পুড়ে মরলো এত মানুষ কিন্তু পানি কোনো কাজেই লাগলো না।
পরে তদন্তে জানা যায় লঞ্চের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং লঞ্চের কেন্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন দ্রুত পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পরে।