
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা নার্সদের গাফিলতির কারণে এক নবজাতক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে।
জানা যায়, বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির শিকদারের স্ত্রী মোসা. ইতি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত বাউফল সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালে পৌঁছে তারা মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর দারোয়ান এসে গেট খুলে দিলে তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সাব্বির শিকদার জানান, তিনি নিজেই ডলি ব্যবহার করে তার স্ত্রীকে হাসপাতালের উপরের তলায় নিয়ে গিয়ে একটি বেডে শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত নার্স শিপলা রানী ও শিরিন সেখানে আসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই দুই নার্স কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো তো দূরের কথা, বরং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা বলেন, “এত ডাকাডাকি করেন কেন? সারাক্ষণ কি আমাদেরই ডিউটি করতে হবে? যা হওয়ার হবে, সকালে দেখা যাবে।” আরও অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসককে অবহিত না করেই নার্সরা নিজেরা কিছু ওষুধ লিখে দেন।
সারা রাত প্রসূতি তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার পর সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক এসে ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। তবে ততক্ষণে মৃত অবস্থায় জন্ম নেয় একটি কন্যা শিশু।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স শিরিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে ফোন দিতে পারেননি, কারণ তার মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না। নিজে ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক না থাকায় তিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন এবং এ ধরনের ওষুধ চিকিৎসকরাও সাধারণত লিখে থাকেন।
অপর অভিযুক্ত নার্স শিপলা রানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার জুথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সকালে এসে বিষয়টি জানতে পারি।”
হাসপাতালের ইনচার্জ মিনারা বেগম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যদি গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএস) ডা. আব্দুর রব বলেন, ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কোনো নার্সের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।