
মোঃ রাশিদুল ইসলাম বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
বাউফল উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঝাড়বাতি ও রঙিন আলোকসজ্জা করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পৌর শহরের পাবলিক মাঠে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সমালোচকদের মতে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য এক রক্তঝরা ও শোকাবহ দিন। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল শহীদদের রক্তে। সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেকেই আত্মত্যাগ করেন। এমন দিনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ঝাড়বাতি ও রঙিন আলো দিয়ে সাজানো দিবসটির গাম্ভীর্য ও শোকাবহ আবহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
বাউফলের প্রবীণ সাংবাদিক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “২১শে ফেব্রুয়ারি মূলত শোকের দিন। এ দিনে শহীদ মিনারকে ঝলমলে আলো বা ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের কোথাও এমন আলোকসজ্জা দেখা যায় না।”
বাউফল পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার বলেন, “শহীদ দিবসে এমন রঙিন আলোকসজ্জা দেখে আমরা বিস্মিত। আলোর ঝলকানি দেখে মনে হচ্ছে কোনো আনন্দঘন অনুষ্ঠান চলছে, অথচ দিনটি জাতির শোকের দিন।”
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. ওয়াহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, “ভাষার মাস শ্রদ্ধার মাস। আমরা বিনম্র চিত্তে শহীদদের স্মরণ করি। কিন্তু শহীদ মিনারে ঝাড়বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসন ও সুশীল সমাজের আলোচনার দাবি রাখে।”
বাউফল কালচারাল ক্লাবের সদস্য রইসুল ইসলাম ইমন বলেন, “অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা শোক বহন করি। কিন্তু রঙিন লাইটিং দেখে শোকের পরিবেশের পরিবর্তে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জনসমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে শহীদ মিনার চত্বর ও আশপাশে সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “এখানে সমালোচনার কিছু নেই। স্থানটি আলোকিত রাখার জন্য আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দূর থেকেও দেখা যায়। শোকাবহ পরিবেশ নষ্ট হয়েছে—এমনটি নয়। সারাদেশেই বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা করা হয়।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা। সচেতন মহলের দাবি, মহান শহীদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।