
মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হলো জেলে সিদ্দিকুর রহমানের লাশ। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বলেশ্বর নদীর বিহঙ্গদ্বীপের উত্তর পাশের ধানসীড় ভেতর থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত সিদ্দিকুর রহমান (৩০) পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়টেংড়া হাজিরখাল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের বড় ছেলে। তার ৯ ও ২ বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। সাত বছর আগে একই নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে সিদ্দিকের বাবা আব্দুল মান্নানও নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে তার লাশ একই নদীতে পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিদ্দিকুর রহমান বাড়ি থেকে নদীতে মাছ শিকারে যান। ভোরে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার নৌকা ডুবে থাকতে পাওয়া গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা ধানসী কাটতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী মনিরা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। দুই মেয়ে আর ছোট দুই ভাইয়ের দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল। এখন আমরা কীভাবে বাঁচব জানি না।
পাথরঘাটা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নদীতে দুই দিন ধরে ৩ নম্বর সংকেত চলছিল। উত্তাল নদীর কারণে হয়তো ট্রলার ডুবে গেছে। আমরা পরিবারের খোঁজ নিচ্ছি এবং সহায়তার ব্যবস্থা করবো।
পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা উদ্ধার অভিযান চালাই। তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মেহেদী হাসান জানান লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারটির খোঁজ রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে কিনা, ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।