
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে কর্মীদের পাহারায় এক গৃহবধূকে (২৩) হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। সম্ভ্রম রক্ষায় পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও রক্ষা পাননি ওই গৃহবধূ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. আক্কাস মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শুভ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনায় আহত গৃহবধূ ও তাঁর মা বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা কুদ্দুস চৌকিদার বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা মোসা. মাহিনুর বেগম জানান, অভিযুক্ত মো. শুভর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমির পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ করতে গেলে তার মেয়ে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে জোরপূর্বক স্পর্শের চেষ্টা করে। ইজ্জত রক্ষায় তার মেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিলে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পুকুরে নেমে একই আচরণ করেন এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন জামায়াত কর্মী পাহারায় ছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক নূর জাহান জানান, গৃহবধূ ও তার মা ভীষণ ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শুভ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণে যদি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, আইন যে শাস্তি দেবে তা মাথা পেতে নেব।” তবে তিনি জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল পদে আছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি খালিদুর রহমান বলেন, “তিনি কোনো পদে আছেন কি না, তা আমার জানা নেই। ইউনিয়ন কমিটির কাগজ আমার কাছে আছে, ওয়ার্ড কমিটির নেই। এমন কোনো ঘটনার বিষয়েও আমি অবগত নই।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”