
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ আসনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। একটি ছাড়া বাকি ১০ আসনেই বিএনপির ঘরে ভাগ বসাতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। খোঁজ নিয়ে ধারণা পাওয়া গেছে, আসনগুলোর ৫টিতে দ্বিমুখী ও ৬টিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে কুমিল্লা-২, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ আসনে।কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের আধিপত্য রয়েছে। এর সঙ্গে তারা আরও ২-৩টি আসন যোগ করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) : এ আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের উপজেলা আমির মো. মনিরুজ্জামান বাহলুল।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) : আসনটি একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এবার মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগ) অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) : এ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ হাকিম সোহেলও বেশ তৎপর। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) : এখানে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।এ আসনে এনসিপি থেকে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া এখানে জামায়াতের প্রার্থী হলেন দলটির উত্তর জেলা সেক্রেটারি, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শহীদ। এখানে বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) : এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ টি এম মিজানুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসেন। এখানে জামায়াতের কার্যক্রম মজবুত বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুঁইয়া। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।