
ক্রাইম রিপোর্টার : মো: রাজিব খাঁন
রাজশাহী জেলার পবা ও মোহনপুর উপজেলায় ছিনতাই এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়—এটি পরিণত হয়েছে নিয়মিত ও সংগঠিত অপরাধে। দিনের আলো থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলমান এই অপরাধ কার্যক্রমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার জনজীবন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এই ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পবা-মোহনপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গ্রামীণ নির্জন এলাকা, বাজারসংলগ্ন রাস্তা এবং যাতায়াতের প্রধান রুটগুলোতে ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যেই অবস্থান নিচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের টার্গেট করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছিনতাইয়ের সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করেও অনেকে কোনো ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছিনতাই হওয়ার পর থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এরপর আর সাহস পাইনি।” সাংবাদিকরাও নিরাপদ নন, অপরাধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন। তথ্য সংগ্রহ বা সংবাদ কাভার করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা তাদের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক স্থানীয় সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি নিজেরাই নিরাপদ না থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবে কে?”
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম প্রায় অদৃশ্য। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত পুলিশ উপস্থিতি না থাকায় ছিনতাইকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপরাধ সংঘটনের পরপরই তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে—যা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
সচেতন মহলের মতে, যদি নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজনদের নজরদারি ও দ্রুত গ্রেপ্তারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হতো, তাহলে এই অপরাধ পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিত না।
আতঙ্কের জনপদ, ছিনতাইয়ের ভয়ে সন্ধ্যার পর অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দাবি এলাকাবাসী অবিলম্বে— নিয়মিত পুলিশ টহল
অপরাধপ্রবণ এলাকায় চেকপোস্ট ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার।
এবং সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের নীরবতা যদি ভাঙা না হয়, তবে পবা-মোহনপুর খুব শিগগিরই অপরাধপ্রবণ এলাকার তালিকায় স্থায়ীভাবে যুক্ত হবে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন নাগরিকরা।