
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৪২ নং চরকাতলাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ সত্যিই সাফল্যের এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক কৃতিত্বের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি শুধু নিজের অবস্থানই শক্ত করেনি, বরং পুরো এলাকার গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়টির ছেলে ও মেয়ে উভয় দলই ইউনিয়ন পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গৌরবের নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।
গত ১২ এপ্রিল কামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় ট্রাইব্রেকারের রোমাঞ্চে ছেলে দল নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে, মেয়ে দল গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১–০ গোলে হারিয়ে বিজয়ের মুকুট নিশ্চিত করে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়—শুধু খেলাধুলাই নয়, সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে সাফল্যের দীপ্ত ছাপ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৪র্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী আহম্মদুল্লাহ ১ম স্থান অর্জন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায়ও সে ২য় স্থান লাভ করে নিজের প্রতিভার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বিদ্যালয়টির অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে পাসের হার সন্তোষজনক এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। নিয়মিত পাঠদান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষকদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
প্রতিকূল চরাঞ্চলের পরিবেশকে জয় করে বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছে একটি মনোরম, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নিয়মিত ক্রীড়া অনুশীলন ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান বলেন, নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই শিক্ষার্থীরা সব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। তাদের আগ্রহ ও নিষ্ঠাই আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক শাহানারা বেগম বলেন, প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, অংশগ্রহণ ও আগ্রহই আমাদের সাফল্যের মূল শক্তি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, “চরাঞ্চলের একটি বিদ্যালয় হয়েও তারা যেভাবে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, চরকাতলাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি একটি স্বপ্ন গড়ার কারখানা। তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলার মাঠ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, চরকাতলাশুর এখন সাফল্যের প্রতীক—যেখানে প্রতিদিন গড়ে উঠছে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা এবং আগামীর আলোকিত বাংলাদেশ।