
নাজমুল আদনান, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চলতি মৌসুমে ১,১২০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। তবে কলার বাম্পার ফলন হলেও জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে কলার বাড়তি চাহিদা ও মুনাফার লোভে একদল অসাধু ব্যবসায়ী বাগান থেকেই সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে কলা পাকাচ্ছে।
অসাধু চক্রের তৎপরতা
উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা কলা কাটার পরপরই প্রকাশ্যেই তাতে রাসায়নিক মিশ্রিত করছে। ব্যবসায়ীরা অকপটে স্বীকার করছেন যে: রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাত্র ১-২ দিনের মধ্যেই কলা উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় এই কলা দ্রুত বিক্রি করা সহজ হয়। তবে কলার বাইরের অংশ পাকা মনে হলেও ভেতরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঁচা থেকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ
উপজেলার ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় বাজারগুলোতে এখন বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত কলায় সয়লাব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে এখন প্রায় শতভাগ কলাই কৃত্রিমভাবে পাকানো। চিকিৎসকদের মতে, এসব রাসায়নিক মিশ্রিত ফল দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে: লিভার ও কিডনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রশাসনের বক্তব্য
এই অসাধু বাণিজ্যের কথা পৌঁছেছে প্রশাসনের কানেও। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই এই বিষাক্ত কলার সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব।